Monday, 13 March 2017

সীতাকুণ্ড থেকে চট্টগ্রাম ট্রেন এর সময়সূচী

সীতাকুণ্ড থেকে চট্টগ্রাম
♧চট্টগ্রাম মেইল  6:44am
ডেমু  7:39 am
♧জালালাবাদ  11:25am
♧কর্ণফুলী  5:20pm
♧সাগরিকা  6:29pm
♧ময়মনসিংহ  7:33pm
চট্টগ্রাম থেকে সীতাকুণ্ড
●সাগরিকা  07:30 am
●কর্ণফুলী  10:00 am
●ময়মনসিংহ  03:30pm
●ডেমু     05:30 pm
●জালালাবাদ  07:30 pm
   





Saturday, 11 March 2017

পোল্ট্রি শিল্প

কর্মসংস্থান:
চার দশক আগে পোল্ট্রি
শিল্পে কর্মসংস্থান কত ছিল সে সম্পর্কে
সঠিক কোন তথ্য উপাত্ত নেই। তবে
বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাষ্ট্রিজ সেন্ট্রাল
কাউন্সিল (বিপিআইসিসি) এর হিসাব মতে
বর্তমানে প্রায় ২০-২৫ লাখ মানুষের প্রত্যক্ষ
কর্মসংস্থান এবং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মিলিয়ে
প্রায় ৬০ মানুষের নির্ভরশীলতা তৈরি
হয়েছে এ শিল্পে- যার প্রায় ৪০ শতাংশই
নারী। ২০৩০ সাল নাগাদ এক কোটি থেকে
সোয়া কোটি মানুষের নির্ভরশীলতা তৈরি
হবে এ খাতে। শিল্প হিসেবে গার্মেন্টস
এর পরেই সবচেয়ে অধিক সংখ্যক মানুষের
জীবন ও জীবিকার সংস্থান করবে
পোল্ট্রি শিল্প।

বিনিয়োগ ও প্রবৃদ্ধি:

বর্তমানে বিনিয়োগ ৩০ হাজার কোটি টাকা
ছাড়িয়ে গেছে। ২০২১ সালের চাহিদা পূরণ
করতে হলে ৫৫-৬০ হাজার কোটি টাকা
বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে।
জিডিপিতে পোল্ট্রিখাতের অবদান:
জিডিপি’তে পোল্ট্রি শিল্পের অবদান
প্রায় ২.৪ শতাংশ।
পোল্ট্রি খামার:সারাদেশে বর্তমানে
প্রায় ৬৫-৭০ হাজার ছোট-বড় খামার
আছে।

ডিমের উৎপাদন ও কনজাম্পশন

২০১৪ সালে ডিমের দৈনিক উৎপাদন ছিল
প্রায় ১ কোটি ৭৫ লাখ। মাথাপিছু
কনজাম্পশন ছিল প্রায় ৪১টি।
২০১৬ সালের শেষ নাগাদ ডিমের দৈনিক
উৎপাদন ছিল প্রায় ২ কোটি ২৫ লাখ
থেকে ৩০ লাখ। সে হিসাবে বলা যায়
বর্তমানে মাথাপিছু কনজাম্পশন প্রায় ৫১টি।
২০২১ সালে দৈনিক উৎপাদন হবে প্রায় ৪
কোটি ৫ লাখ ডিম। মাথাপিছু কনজাম্পশন
প্রায় ৮৬টিতে উন্নীত হবে বলে
ধারনা।

মুরগির মাংসের উৎপাদন ও কনজাম্পশন

২০১৪ সালে মুরগির মাংসের দৈনিক উৎপাদন
ছিল প্রায় ১,৫১০ মেট্রিক টন। মাথাপিছু
বার্ষিক কনজাম্পশন ছিল প্রায় ৩.৫ কেজি।
২০১৬ সালে মুরগির মাংসের দৈনিক উৎপাদন
বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১,৮৫১
মেট্রিক টন। মাথাপিছু বার্ষিক কনজাম্পশন
বেড়ে হয়েছে প্রায় ৪.২ কেজি।
২০২১ সালে হবে প্রায় ৩ হাজার ৩০০
মেট্রিক। মাথাপিছু বার্ষিক কনজাম্পশন
হবে প্রায় ৭ কেজি।
দেশে ডিম ও মুরগির মাংস খাওয়ার পরিমান
বাংলাদেশে জনপ্রতি মুরগির মাংস খাওয়ার
পরিমান বছরে মাত্র ৪.২ কেজি। উন্নত
বিশ্বের মানুষ খায় বছরে গড়ে প্রায়
৪৫-৫০ কেজি।
এফএও’র মতে জনপ্রতি নূন্যতম ডিম
খাওয়া উচিত বছরে ১০৪ টি। উন্নত বিশ্বে
বছরে জনপ্রতি গড়ে প্রায় ২২০ টির মত
ডিম খাওয়া হয়। জাপানের মানুষ খায় বছরে
গড়ে প্রায় ৬০০টি। আমাদের দেশে এ
পরিমান জনপ্রতি মাত্র ৫১টি।
মাছ ও মাংস মিলে প্রাণিজ আমিষ খাওয়া দরকার
বছরে অন্তত: ২৫-৩০ কেজি। কিন্তু
আমরা খাচ্ছি প্রায় ২৩ কেজি (মাংস ৮ কেজি,
১৫ মাছ)। সে হিসাবে মাংস কম খাচ্ছি ৭
কেজি ।

পোল্ট্রি ফিডের উৎপাদন

২০১৪ সালে পোল্ট্রি ফিডের বার্ষিক
উৎপাদন ছিল প্রায়: ২৫ লাখ মেট্রিক টন
২০১৬ সালে পোল্ট্রি ফিডের বার্ষিক
উৎপাদন ছিল প্রায়: ৩৩ লাখ মেট্রিক টন
২০২১ সালে পোল্ট্রি ফিডের বার্ষিক
উৎপাদন হবে প্রায়: ৫৫-৬০ লাখ মেট্রিক
টন।
৪ দশকে বাংলাদেশে পোল্ট্রি শিল্পের
নীরব বিপ্লব
আশির দশকে বিনিয়োগ ছিল মাত্র ১৫শ
কোটি টাকা। বর্তমানে ৩ হাজার কোটি
টাকা ছাড়িয়ে গেছে।
জিপি ফার্ম ছিল না। পুরোটাই ছিল আমদানি
নির্ভর। এখন ৮টি কোম্পানীর মোট
১৫টি খামার গড়ে উঠেছে
পিএস খামার/হ্যাচারি: হাতে গোনা দু’-একটি
থেকে বর্তমানে ২০৫টি (সূত্র:
ডিএলএস)।
আগে আধুনিক ফিড ইন্ডাষ্ট্রি বলে কিছু
ছিল না। প্যাকেটজাত ফিড আমদানি করা হত।
কিন্তু এখন প্রায় ১৮৬টি ফিডমিল গড়ে
উঠেছে। এখন আর প্যাকেজাত ফিড
আমদানি হয় না। উল্টো বাংলাদেশের
পোল্ট্রি শিল্পই রপ্তানী’র চিন্তা-ভাবনা
করছে।
আগে দেশীয়ভাবে তেমন কোন
ঔষধ তৈরি হত না। পুরোটাই ছিল আমদানি
নির্ভর। কিন্তু এখন প্রায় ৩০টি
কোম্পানী দেশীয়ভাবে বিভিন্ন
ঔষধ তৈরি করছে। ফলে আমদানি নির্ভরতা
কমতে শুরু করেছে।
আগে দেশে কোন পোল্ট্রি
প্রসেসিং কিংবা ফারদার প্রসেসিং ইন্ডাষ্ট্রি
ছিল না। এ ধরনের প্রোডাক্ট পুরোটাই
আমদানি হয়ে আসত। কিন্তু এখন ৮-১০টি
কোম্পানী প্রসেসিং ইন্ডাষ্ট্রি গড়ে
তুলেছে। ইউরোপ আমেরিকার মত
দেশে যে ধরনের পোল্ট্রি’র ভ্যালু
অ্যাডেড প্রোডাক্ট তৈরি হয় তা এখন
দেশেই উৎপাদিত হচ্ছে।
পোল্ট্রি’র বিষ্টা থেকে এখন তৈরি
হচ্ছে জৈব সার, বায়োগ্যাস এবং বিদ্যুৎ।
সরকারের সহায়তা পেলে পোল্ট্রি
রিসাইক্লিং দিয়ে দেশের চেহারা পাল্টে
ফেলা সম্ভব।
আগে পোল্ট্রি শিল্পে
প্রয়োজনীয় ভূট্টার প্রায় পুরোটাই
আমদানি করতে হতো। এখন চাহিদার প্রায়
৪০ শতাংশ ভূট্টা দেশে উৎপাদিত হচ্ছে।
চালের কুঁড়া বা রাইস পলিসও
দেশীয়ভাবে পাওয়া যাচ্ছে। তবে
সয়াবিনের সিংহভাগই আমদানি করতে
হচ্ছে। সয়াবিনের উৎপাদন বাড়ানোর
জন্য সরকারের উদ্যোগ প্রয়োজন।
আধুনিক বিজ্ঞান বলছে-
সপ্তাহে ৪টি করে ডিম খেলে টাইপ-টু
ডায়াবেটিসের ঝুঁকি ৩৭ শতাংশ কমে যায়।
সপ্তাহে ৬ টি ডিম খেলে স্তন
ক্যানসারের সম্ভবনা ৪০% হ্রাস পায়।
ডিমের কেরোটিনয়েড, ল্যুটেন ও
জিয়েক্সেনথিন চোখের ম্যাকুলার
ডিজেনারেশন হওয়ার সম্ভাবনা কমায়।
চোখের ছানি কমাতেও সাহায্য করে।
ডিমে প্রায় ৩০০ মাইক্রোগ্রাম
কোলাইন থাকে। যা কার্ডিওভাসকুলার
সিস্টেম, স্নায়ু, যকৃত ও মস্তিষ্ক
নিয়ন্ত্রণে সহায়ক।
শুধু তাই নয়, শর্করা কমিয়ে প্রতিদিন ডিম
খেলে, মাসে ৩ পাউন্ড পর্যন্ত ওজন
কমানো সম্ভব!
আধুনিক বিজ্ঞান আরও বলছে- ৬৫% বডি
ওয়েট, ১৬% বডি ফ্যাট, ৩৪% কোমরে
জমে থাকা মেদ কমাতে পারে ডিম!
মাত্র ২টি ডিম নারীর দৈনিক প্রোটিন
চাহিদার ১/৪ ভাগ পূরণ করতে পারে।

-সৌজন্যে ওয়ার্ল্ড’স পোল্ট্রি সায়েন্স
অ্যাসোসিয়েশন-বাংলাদেশ শাখা


Friday, 10 March 2017

চৌদ্দগ্রাম

ইতিহাস

আগরতলার মহারাজা রাজা বিরেন্দ্র বিক্রম কিশোর
মানিক বাহাদুরের খুবই প্রিয় ছিল এই চৌদ্দগ্রাম
এলাকা। এই অঞ্চল থেকে রাজার খাজাঞ্চি খানায়
প্রচুর রাজস্ব জমা হতো। উদার রাজা এই
অঞ্চলে অনেক জনহিতকর কাজও করেছেন।
চৌদ্দগ্রামের বড় বড় জলাশয় ও দিঘীগুলো তার
পরিচয় বহন করে। তৎকালীন সময়ে খাজনা
আদায়ের সুবিধার জন্য বিভিন্ন ভৌগোলিক
অঞ্চলগুলোকে পরগণা বলে অভিহিত করা হত।
চৌদ্দগ্রামেও একটি পরগণার সদর দপ্তর ছিল। এই
পরগণাটি চৌদ্দটি গ্রাম নিয়ে প্রতিষ্ঠিত ছিল বলে এর
নামকরণ হয় চৌদ্দগ্রাম। পরবর্তীতে যখন ১৯০৫
সালে থানা প্রতিষ্ঠিত হয় তখন কেন্দ্রের নাম
অনুসারে পুরো থানার নামকরণ করা হয় চৌদ্দগ্রাম।

ভাষা ও সংস্কৃতি

চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ভূ-প্রকৃতি ও ভৌগোলিক
অবস্থান এই উপজেলার মানুষেরভাষা ও সংস্কৃতি
গঠনে ভূমিকা রেখেছে। বাংলাদেশের
দক্ষিণ-পূর্বঅঞ্চলে অবস্থিত এই উপজেলাকে
ঘিরে রয়েছে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য, ঢাকা বিভাগ
ও চট্টগ্রাম বিভাগের অন্যান্য উপজেলাসমূহ।
এখানে ভাষার মূল বৈশিষ্ট্য বাংলাদেশের অন্যান্য
উপজেলার মতই, তবুও কিছুটা বৈচিত্র্য খুঁজে পাওয়া
যায়। যেমন কথ্য ভাষায় মহাপ্রাণধ্বনি অনেকাংশে
অনুপস্থিত, অর্থাৎ ভাষা সহজীকরণের প্রবণতা
রয়েছে। চৌদ্দগ্রাম উপজেলার আঞ্চলিক ভাষার
সাথে সন্নিহিত ঢাকা অঞ্চলের ভাষার, লাকসাম
উপজেলার আঞ্চলিক ভাষায় নোয়াখালি এলাকার
ভাষার অনেকটাই সাযুজ্য রয়েছে। চৌদ্দগ্রাম
উপজেলার ভাষা সংস্কৃতিতে ব্যাপক প্রভাব
ফেলেছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে
করেন। চৌদ্দগ্রাম উপজেলার সভ্যতা বহু
প্রাচীন। এই এলাকায় প্রাপ্ত প্রত্নতাত্ত্বিক
নিদর্শন ও বৌদ্ধ বিহারের ধ্বংসাবশেষ প্রাচীন
সভ্যতার বাহক হিসেবে দেদীপ্যমান। এছাড়াও
এ এলাকায় কিছু ক্ষুদ্র জাতিসত্বা বসবাস করে
যাদের নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতি রয়েছে।

Thursday, 9 March 2017

বিপণন

বিপণন হলো পণ্য বা মূল্যের বিনিময়ে
কোনো ব্যক্তি বা দলের প্রয়োজন ও
অভাব পূরণ করার সামাজিক এবং ব্যবস্থাপকীয়
কার্যক্রম। [১] Converse-এর মতে, "সময়গত,
স্থানগত এবং স্বত্ত্বগত উপযোগ সৃষ্টি করাই
বিপণন"। আমেরিকান মার্কেটিং
এ্যাসোসিয়েশন-এর প্রদত্ত সংজ্ঞানুসারে:
“ সংগঠন ও স্টেক
হোল্ডারদের সুবিধার্থে
ক্রেতা সম্পর্কভিত্তিক
ব্যবস্থাপনা এবং ক্রেতা সৃষ্টি,
যোগাযোগ স্থাপন ও ভ্যালু
প্রদানের লক্ষ্যে সম্পাদিত
সাংগঠনিক কার্যক্রম এবং
প্রক্রিয়ার সমষ্টিকেই বিপণন
বলে। [২][৩] ”
বিপণনের মৌলিক ধারণাসমূহ
প্রয়োজন, অভাব ও চাহিদা
বাজারজাতকরণ অর্পণ
ভ্যালু ও সন্তুষ্টি
বিনিময়, লেনদেন এবং সম্পর্ক
বাজারসমূহ
বিপণন অর্পণ
বিপণন ১০টি বিষয় বা দশ ধরণের সত্তা বাজারজাত
করে থাকে [২] :
পণ্য
বিপণন মূলত এবং প্রথামিকভাবে পণ্যই
বাজারজাত করে থাকে। যেমন:
টেলিভিশন, চকলেট, পেনসিল,
উড়োজাহাজ ইত্যাদি।
সেবা
অগ্রগামী বিশ্বে পণ্যের পাশাপাশি
সেবাও বিপণন হচ্ছে। উদাহরণ:
বিমান, সেলুন বা পার্লার, হিসাববিদ,
প্রোগ্রামার ইত্যাদি।
ঘটনা
বিভিন্ন সময়ানুগ ঘটনাও বিপণন হয়।
যেমন: বাণিজ্য মেলা, ক্রিড়া অনুষ্ঠান
বার্ষিকী ইত্যাদি।
অভিজ্ঞতা
অনেক ফার্মই, কিংবা ব্যক্তি
কোনো কাজে দক্ষতার পরিচয়
দিতে দিতে একসময় অভিজ্ঞ হয়ে
উঠলে তা বিপণন করে থাকেন।
যেমন: ক্রিকেট খেলোয়াড়ের
কাছে প্রশিক্ষণ, অভিজ্ঞ
পর্বতারোহীর সাথে এভারেস্ট
অভিযান ইত্যাদি।
ব্যক্তি
তারকা ব্যক্তিত্বের বিপণন হয়ে
থাকে, যেমন: ওপরাহ্ উইনফ্রে,
টায়রা ব্যঙ্ক, ম্যাডোনা প্রমুখ
নিজেরাই একেকজন ব্র্যান্ড।
স্থান
বিভিন্ন স্থান, এলাকাও বাজারজাত হতে
পারে, যেমন: পর্যটক
আকর্ষণীয় স্থান বাজারজাতকরণ।
উদাহরণস্বরূপ উল্লেখ করা যায়,
বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন
কর্তৃক বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র
সৈকত হিসেবে কক্সবাজারের
প্রচারণা।
সম্পত্তি
অস্পৃশ্য সম্পত্তির মালিকানা, চাই
স্থাবর সম্পত্তি, কিংবা আর্থিক
সম্পত্তি বিপণন করা হয়। যেমন:
বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক এজাতীয়
বাজারজাতকরণে সম্পৃক্ত।
সংগঠন
বিভিন্ন সংগঠন তাদের লক্ষ্য-
ক্রেতাদের কাছে তাদের
ভাবমূর্তি প্রস্ফুটিত করতে বিপণন
করে। যেমন: বিশ্ববিদ্যালয়,
জাদুঘর, সংগীত-নৃত্যকলা সংগঠন
ইত্যাদি।
তথ্য
তথ্যও পণ্যের মতো বিপণন হয়।
যেমন: অভিধান, বিশ্বকোষ,
ম্যাগাজিন, বই-পুস্তক ইত্যাদি।
ধারণা
প্রত্যেক বাজার অর্পণই মূলত একটি
ধারণা। অনেক প্রতিষ্ঠান পণ্য
সংক্রান্ত এমন ধারণার বিপণন করে।
যেমন: Revlon বলে: "কারখানায়
আমরা প্রসাধনী তৈরি করি,
দোকানে আমরা আশা বিক্রয় করি।"
বিপণন মিশ্রণ
মূল নিবন্ধ: বাজারজাতকরণ মিশ্রণ
বিপণনের তত্ত্ব বা
মতবাদসমূহ
বিপণন দিনে দিনে তার ধারণাগত উন্নয়নের মধ্য
দিয়ে অগ্রসর হচ্ছে।বিপণনের উন্মেষের
সূচনালগ্নে ক্রেতাকে যেভাবে দেখা
হতো, আজ,বিপণনের যুগে ক্রেতাকে তার
সম্পূর্ণ বিপরীতভাবে দেখা হয়। আর
এভাবেই বিপণন কতিপয় মতবাদ বা তত্বে যুগে
যুগে আলাদা হয়ে গেছে।
উৎপাদন মতবাদ
উৎপাদন মতবাদ (Production Concept)বিপণনের
লক্ষ্য-সংশ্লিষ্ট সবচেয়ে পুরোন মতবাদ। এই
মতবাদ মতে, ক্রেতা সেই পণ্যই আকৃষ্ট
হবে, যা সহজলভ্য ও সুলভ। এই মতবাদের মূল
লক্ষ্যই থাকে অধিক উৎপাদন, কম উৎপাদন খরচ
এবং বিস্তৃত বণ্টন। এই মতবাদ কাজ করে দুরকম
পরিস্থিতিতে:
1. যখন যোগানের চেয়ে চাহিদা বেড়ে যায়
2. যখন পণ্যের দাম বেড়ে যায় এবং দাম
কমাতে উৎপাদন বাড়াতে হয়
তবে এতদসত্ত্বেয় উৎপাদন মতবাদের একনিষ্ঠ
প্রয়োগ অনেক সময় কোম্পানীকে
'ক্রেতার চাহিদা পূরণের' মূল লক্ষ্য থেকে
সরিয়ে রাখে। [১]
পণ্য মতবাদ
ক্রেতা শুধুমাত্র সেই পণ্যে আকৃষ্ট হবে, যা
গুণ, মান, বৈশিষ্ট্যে সমুজ্জল এবং পণ্যটির উৎকর্ষ
সাধন করা হয়- এই মতবাদে দিক্ষীত পণ্য মতবাদ
(Product Concept)। এতে উৎপাদক যেন বিশ্বাস
করেন যে, একটা ভালো মানের 'ইঁদুর-ধরা
ফাঁদ'ই ক্রেতাকে আকৃষ্ট করবে, কিন্তু একজন
ক্রেতা যে ইঁদুর ধরা ফাঁদের বদলে ইঁদুর মারার
পথ খুঁজতে পারেন, তা ভাবা হয় না। তাই পণ্য
মতবাদও বাজারজাতকরণ ক্ষীণদৃষ্টির (Marketing
myopia) পরিচয় দেয়। তাছাড়া এই মতবাদে
অনেক সময়ই সম্ভাব্য প্রতিযোগীকে
বিবেচনা করা হয় না। [১]
বিক্রয় মতবাদ
ক্রেতা ততক্ষণ কোনো পণ্য ক্রয় করবে
না, যতক্ষণ কোম্পানীর পক্ষ থেকে
পণ্যের পক্ষে জোরালো প্রচার ও প্রসার
কার্যক্রম হাতে না নেয়া হয়- এমনটাই ধারণা বিক্রয়
মতবাদের (Selling Concept)। সাধারণত সচরাচর
প্রয়োজন হয়না বা কেনা হয়না এমন পণ্যের
ক্ষেত্রে বিক্রয় মতবাদ কাজে লাগানো হয়;
যেমন: বীমা পলিসি, বিশ্বকোষ ইত্যাদি। আবার
অনেক কোম্পানীর, চাহিদার চেয়েও
যোগান বেশি দেবার ক্ষমতা থাকলে তারাও
বিক্রয় মতবাদ ব্যবহার করে। কিন্তু বিক্রয় মতবাদ
অনেকাংশেই ব্যবসায়িক ধ্যান-ধারণার মতবাদ;
এতে অনেক সময়ই যা উৎপাদন করা হয়, তা বিক্রয়
করার চিন্তা করা হয়, কিন্তু বাজার যা চায়, তা বিক্রয়
করার চিন্তা করা হয় না।
বিপণন মতবাদ
বিক্রয় মতবাদের ক্ষীণদৃষ্টিকে সামলে নিয়ে
জন্ম হয় বাজারজাতকরণ মতবাদের (Marketing
Concept)। ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দের মাঝামাঝিতে উদ্ভব
হয় এ মতবাদের। এ মতবাদ মতে, ক্রেতাদের
চাহিদা ও সন্তুষ্টির নিমিত্তেই লক্ষ্যার্জন করতে
হয়। বিক্রয় মতবাদের 'পণ্যের জন্য ক্রেতা'
ধারণা থেকে বেরিয়ে এসে 'ক্রেতার জন্য
পণ্য' ধারণার মতো যুগান্তকারী অথচ সম্পূর্ণ
বিপরীত ধরণার জন্ম দেয় এই মতবাদ। কিন্তু এ
মতবাদও শুধুমাত্র ক্রেতা-ভোক্তা, আর
কোম্পানীর বাইরে আর কিছু নিয়ে ভাবে না,
তাই এই মতবাদও সর্বাধুনিক মতবাদ নয় বলে
অনেকে মনে করেন। [১]
সামাজিক বিপণন মতবাদ
১৯৭০ খ্রিস্টাব্দের পর সমাজের উপযোগিতা,
স্বার্থ বিবেচনা করে যে বিপণন মতবাদের
উন্মেষ ঘটে তা সামাজিক বিপণন মতবাদ (Social
Marketing Concept) হিসেবে পরিচিত। এই
মতবাদ অনুসারে ক্রেতা-ভোক্তা,
কোম্পানীর পাশাপাশি সমাজের, ভালোর এবং
নৈতিকতার দৃষ্টিতে বিপণন পরিচালনার ধারণা
উৎপত্তিলাভ করে। এতে মুনাফা অর্জনের
পাশাপাশি সমাজের কল্যাণ মুখ্য হয়ে ধরা পড়ে।
[১]
সামগ্রিক বিপণন মতবাদ
কিন্তু অপরাপর সকল মতবাদই কোনো না
কোনো দৃষ্টিতে স্বয়ংসম্পূর্ণ নয় বলে এই
ফাঁক পূরণ করতে একবিংশ শতাব্দিতে উদ্ভব হয়
সামগ্রিক বিপণন মতবাদের (Holistic Marketing
Concept)। এই মতবাদে মনে করা হয়,
বিপণনের ক্ষেত্রে সংঘটিত সকল ঘটনা বা
কর্মকান্ডেরই একটি বৃহৎ, সমন্বিত ও সুনির্দিষ্ট
উদ্দেশ্য থাকা উচিত। [২] এই মতবাদ মূলত বিপণন
ক্ষেত্রে উদ্ভূত সমস্যা ও জটিলতা নিরসনে
সহায়তা করে। এই মতবাদে মূলত চারটি অংশকে
প্রাধান্য দেয়া হয়: